বিকাশে ডিপিএস সুবিধা, চার্জ ও মুনাফার এ-টু-জেড বিস্তারিত জানুন এখানে

বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস বা সঞ্চয় খোলার নিয়ম ও সুবিধা? পার্টনার ব্যাংকগুলোর মুনাফার হার, মাসিক চার্জ হিসাবসহ বিস্তারিত জানুন এখানে।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা প্রতিদিন টাকা ইনকাম করছেন ঠিকই কিন্তু টাকা সঞ্চয় করতে পারছেন না এবং ভাবছেন কিভাবে টাকা সঞ্চয় করা যায় সহজ উপায়ে। বিকাশ নিয়ে এলো একটি দুর্দান্ত সেবা যা ব্যাংকে না গিয়ে কোন কাগজপত্র ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসেই টাকা সঞ্চয় করা যাবে খুব সহজেই বিকাশ অ্যাপসের মাধ্যমে। আমরা আপনাদের সুবিধার্থে বিকাশ ডিপিএস এর সম্পর্কে আজকের এই পোস্টে (Bkash DPS)  বিকাশে ডিপিএস এর সুবিধা, মুনাফা আর চার্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই পুরো আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন আশা করি এখান থেকে আপনি বিকাশ ডিপিএস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়ে যাবেন।

bkash dps benefits profit charge full guideline
bkash dps benefits profit charge full guideline

বিকাশে ডিপিএস খোলার সুবিধা

বিকাশ দেশব্যাপী জনপ্রিয় একটি মোবাইল ব্যাংকিং দৈনিক ক্যাশবিহীন টাকা লেনদেন এবং পেমেন্ট সার্ভিস কেনাকাটার জন্য খুবই সুপরিচিত এই প্ল্যাটফর্ম টি। বিকাশে Bkash DPS account ডিপিএস এটি একটি দুর্দান্ত ফিউচার যা ভবিষ্যতে টাকা জমানোর জন্য খুবই একটি ভালো আর্থিক পরিষেবা। যা ইতো মধ্যে বিকাশ গ্রাহকরা ৬০ লাখেরও বেশি (Bkash DPS) বিকাশ ডিপিএস খুলেছে এবং টাকা (savings) সঞ্চয় করে সেখান থেকে ভালো পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। আজকালকার দিনে সঞ্চয় করাটা কতটা জরুরি, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিপিএস খোলার সময় বা ইচ্ছে অনেকেরই থাকে না। তাই বিকাশে এমন কিছু সুবিধা দিয়েছে যা গ্রাহক চাইলে খুব সহজে ঘরে বসে বিকাশ অ্যাপস এর মাধ্যমে ডিপিএস একাউন্ট খুলতে পারে। বিকাশে ডিপিএস খোলার মাধ্যমে যে ধরনের সুবিধা আপনি পাবেন তার নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো। 

বিকাশে ডিপিএস করার দুর্দান্ত সুবিধাসমূহ:

ঝামেলাহীন অ্যাকাউন্ট: ডিপিএস খোলার জন্য কোন ব্যাংকের ব্রাঞ্চে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কোন ফর্ম পূরণ করা ঝামেলাও নেই। শুধুমাত্র আপনার একটি বিকাশ একাউন্ট থাকলে এবং বিকাশ অ্যাপসের মাধ্যমে শুধুমাত্র কয়েক ক্লিকে বিকাশে ডিপিএস অ্যাকাউন্ট ওপেন করা যায়। 

ছোট অঙ্কের সঞ্চয়: আপনার ইনকাম কম এবং আয়ও কম কোন সমস্যা নেই ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক এবং সপ্তাহে কিস্তি জমা দিয়ে টাকা সঞ্চয় করা যায় বিকাশ ডিপিএসে। তাই অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করে ভবিষ্যতে জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব।

টাকা জমা ও অটো ডেবিট ফিচার: ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ এমনকি প্রতি মাসে টাকা জমা দেওয়ার কথা ভুলে যাওয়ার ভয় নেই। অর্থাৎ আপনার বিকাশ একাউন্টে সাপ্তাহিক বা মাসিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা জমা করে রাখুন। আপনি যে অংকের টাকা ডিপিএস করেছেন সে অংশের টাকা অটোমেটিকভাবে কেটে নেবে আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে।

মেয়াদ নির্ধারণের স্বাধীনতা: আপনি আপনার ইচ্ছেমতো ৬ মাস অথবা ২, ৩, ৪ বছরের জন্য এই ডিপিএস স্কিম চালু করতে পারবেন বিকাশে। জরুরি প্রয়োজনে ডিপিএস এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডিপিএস বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও ডিপিএস এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডিপিএস ক্লোজ করলে কোন রকম মুনাফা পাবেন না এবং ক্যাশ আউট করতে গেলে চার্জ লাগবে। বিকাশে ডিপিএস এর মেয়াদ শেষ হলে অটোমেটিক আপনার বিকাশ একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে। 

বিকাশে ডিপিএস নিরাপত্তা: ডিপিএস করার ক্ষেত্রে বিকাশে ডিপিএস কতটা নিরাপদ এ বিষয়টা জানা খুবই প্রয়োজন। আপনার জমানো টাকা বিকাশের পার্টনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন: আইডিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ইত্যাদি এর কাছে একদম নিরাপদ থাকবে। কারন এই সমস্ত ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত এবং বহুদিন ধরে গ্রাহকদের বিশ্বাসের সাথে আর্থিক পরিষেবা দিয়ে এসেছে। 


বিকাশে ডিপিএস লাভ বা মুনাফা হার কেমন

ডিপিএস করার আগে সবাই জানতে চায় bkash dps interest rate লাভ বা মুনাফা হার কেমন আসবে‌ এটাই স্বাভাবিক। সাধারণ ব্যাংকগুলোতে তিন বছর এবং পাঁচ বছর বা আরো বেশি দশ বছর পর্যন্ত মেয়াদ থাকে। অন্যদিকে বিকাশ ডিপিএস এ ৬ মাস থেকে শুরু করে এক বছর দুই বছর পাঁচ বছর বা তার ও বেশি মেয়াদ থাকে। এখানে ব্যাংকের সাথে বিকাশে ডিপিএস তুলনা করলে বিকাশ ডিপিএস সবচেয়ে বেশি লাভ বা মুনাফা দেয়।

যাদের ইনকাম কম এবং মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি তারা অল্প অল্প করে বিকাশে ডিপিএস এ টাকা জমিয়ে ৮% পার্সেন্ট ৯% পার্সেন্ট এমনকি ১০% পার্সেন্ট পর্যন্ত প্রতিবছরে মুনাফা পেতে পারেন বিকাশ থেকে। বিকাশের সাথে কিছু পার্টনার ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অংকের মুনাফা প্রদান করে প্রতিবছরের গ্রাহকদের। কোন ব্যাংকে কত পারসেন্ট এবং কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কত পারসেন্ট প্রতি বছরে মুনাফা profit দেয় সে বিষয়ে নিচে কিছু তথ্য দেওয়া হল।

বিকাশে ডিপিএস লাভ বা মুনাফাসমূহ:

  • IDLC finance PLC তে ডিপিএস ওপেন করলে‌ বার্ষিক ১০%  মুনাফা দিবে।
  • BRAC Bank PLC তে ডিপিএস ওপেন করলে‌ বার্ষিক ৯%  মুনাফা দিবে।
  • Dhaka Bank PLC তে ডিপিএস ওপেন করলে‌ বার্ষিক ৮%  মুনাফা দিবে।

উদাহরণ: আপনার ডিপিএস একাউন্টে যদি ৯% পার্সেন্ট মুনাফা দেওয়ার শর্তাবলী থাকে তাহলে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা জমা রাখলে, মেয়াদপূর্তিতে আপনি প্রায় ১২,৫৯৭ টাকা পাবেন। এছাড়াও মুনাফার পরিমাণ আরো অনেক বেশি বাড়তে পারে সেটি নির্ভর করে আপনার ডিপিএস ওপেন করার উপর। এবং সেই ডিপিএস এ জমানো টাকা যে কোন বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট করলে কোন চার্জ কাটা হবে না। তাই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি বিকাশের অ্যাপস এর মাধ্যমে কোন ব্যাংকে ডিপিএস ওপেন করতে চাচ্ছেন। আপনি যখন বিকাশ অ্যাপ থেকে ডিপিএস খুলতে যাবেন, তখনই কোন ব্যাংক কত শতাংশ মুনাফা  দিচ্ছে তা একদম পরিষ্কার দেখতে পাবেন। সেখান থেকে যেটা সবচেয়ে বেশি লাভজনক মনে হবে, সেটি বেছে নিতে পারবেন।


বিকাশে ডিপিএস খোলা এবং টাকা উঠানোর চার্জ

বিকাশ অ্যাপসে ডিপিএস ওপেন করা ফ্রী কোন খরচ নেই। এছাড়াও বিকাশে ডিপিএস মেইন্টেন্স বা পরিচালনার করা বার্ষিক কোন খরচ নেই। বিকাশে ডিপিএস ওপেন করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো টাকা উঠানোর ক্ষেত্রে কোন খরচ নেই। সুতরাং আপনার জমানো কিতো মূল টাকা এবং লাভ  সহো বিকাশে জমা হবে সেই টাকা উঠাতে কোন ক্যাশ আউট চার্জ লাগবে না। তাছাড়া বিকাশে ডিপিএস এ টাকা  জমা করার সময় বাড়তি কোন চার্জ নেই যেমন আপনার বিকাশ একাউন্টে এক হাজার টাকা থাকলে ১০০০ টাকা যদি কিস্তি হয় তাহলে সেই ১০০০ টাকায় কেটে নেবে বাড়তি হাজারে ২০ টাকা কেটে নেবে না।


কীভাবে বিকাশে ডিপিএস খুলবেন How to Open Bkash DPS 

বিকাশে ডিপিএস খুবই সহজ ৪টি স্টেপ:

  • বিকাশ অ্যাপে লগইন করে সঞ্চয় বা Savings আইকনে ট্যাপ করুন।
  • নতুন সঞ্চয় খুলুন সিলেক্ট করে মেয়াদ এবং জমার ধরন মাসিক বা সাপ্তাহিক যে কোনো একটি বেছে নিন।
  • আপনার পছন্দের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জমার পরিমাণ যেমন: ২৫০, ৫০০, ১০০০ টাকা  সিলেক্ট করুন।
  • আপনার নমিনির তথ্য দিন এবং পিন নম্বর দিয়ে কনফার্ম করুন। 

সতর্কবার্তা: 

  • নির্দিষ্ট তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে, নইলে ডিপিএস মিস হতে পারে।
  • এছাড়াও যদি নির্দিষ্ট মেয়াদ এর আগে বিকাশে ডিপিএস ক্লোজ করেন তাহলে কোন রকম মুনাফা পাবেন না এবং ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হবে।
  • এমন কাউকে নমিনি হিসেবে বেছে নিন যে আপনার অপরিবর্তে বিকাশ ডিপিএস থেকে টাকা তুলতে পারে।

শেষ কথা: আশা করি আমরা আপনাদেরকে (Bkash DPS)  বিকাশে ডিপিএস এর সুবিধা, মুনাফা আর চার্জ নিয়ে বিস্তারিত খুব সহজে বুঝিয়ে দিতে পেরেছি এই পোস্টে। তাহলে আর দেরি কেন? ভবিষ্যতের সুরক্ষায় আপনার সন্তান বা পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং আপনার নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আজই ছোট খাটো একটা সঞ্চয় শুরু করে দিতে পারেন বিকাশ ডিপিএস এ। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। বিকাশ ডিপিএস নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানান। সাথে আড়োও নতুন নতুন পোস্ট পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ForYouCaption ভিজিট করুন।

আড়োও পড়ুন: